৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৯:৩৬
ইরান যুদ্ধে প্রাণ হারানো মার্কিন সেনাদের পরিবারকে ভাতা দেবে না পেন্টাগন

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের প্রাপ্য বেতন ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা নিশ্চিত করতে লড়াই করছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইরানে হামলায় নিহত এক মার্কিন সেনার স্ত্রী লিবি ক্লিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছে, তার স্বামী ৩৩ বছর মেজর অ্যালেক্স ক্লিনারের মৃত্যুর পর মার্কিন বিমান বাহিনী তাকে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধার জন্য অযোগ্য হিসেবে গণ্য করেছিল, কারণ কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি।

মার্চে পশ্চিম ইরাকে একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে যে ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হন, অ্যালেক্স ছিল তাদের একজন। বিমানটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সহায়তা করছিল। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর ছয় মাসেরও বেশি সময়ে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৭৮০ জন আহত হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলে, আমার স্বামী প্রাণ হারিয়েছেন কারণ আমরা একটি যুদ্ধের মধ্যে রয়েছি – আর তারপরে আমাকে বলা হয়েছিল যে, এটি কারিগরিভাবে কোনো যুদ্ধ না হওয়ায় আমরা কিছুটা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত নীতির প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

অনলাইনে নিজের হতাশার কথা জানিয়ে একটি পোস্ট দেওয়ার পর সেটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে মার্কিন বিমানবাহিনী বিষয়টি পরিষ্কার করে জানায়, অ্যালেক্স ক্লিনারের শেষ বেতন-চেকে ঝুঁকিভাতা এবং যুদ্ধ-সম্পর্কিত কর ছাড় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

লিবি ক্লিনার পরে এক বিবৃতিতে বলে, এই অভিজ্ঞতা আমাকে যে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝিয়েছে, তা হলো— শোকাহত একটি পরিবারের জন্য শ্রেণিবিন্যাস, পরিভাষা ও সরকারি প্রক্রিয়া বোঝা কতটা কঠিন হতে পারে, ঠিক এমন একটি সময়ে যখন এসব বিষয় সামলানোর জন্য আমরা মানসিকভাবে সবচেয়ে কম প্রস্তুত থাকি। 

আরও বলে, কোনো গোল্ড স্টার পরিবারকে— অর্থাৎ সামরিক দায়িত্ব পালনের সময় স্বজন হারানো কোনো পরিবারকে— তারা কী কী সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে, তা বোঝার জন্য সরকারের ব্যবহৃত ভাষার বিশেষজ্ঞ হতে বাধ্য করা উচিত নয়। অ্যালেক্স তার সামরিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে জানত এবং সে বিশ্বাস করত, সবচেয়ে খারাপ কিছু ঘটলে তার পরিবারের দেখভাল করা হবে। 

লিবি ক্লিনার বলে, আমি চাই, আলোচনার মূল বিষয় হোক— যে পরিবারগুলো অকল্পনীয় এক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে, তাদের প্রত্যেকটি পরিবার যেন শুরু থেকেই একই ধরনের স্পষ্ট তথ্য পায়। পেছনে পড়ে থাকা পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি সঠিকভাবে নিশ্চিত করা কোনো ছোটখাটো আনুষঙ্গিক বিষয় নয়— বরং আমরা যেসব মানুষকে হারিয়েছি, তাদের দায়িত্ব ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানানোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 

মার্কিন সেনাসদস্যদের পরিবারগুলো আরও অভিযোগ করেছে, পেন্টাগন আহত সেনাদের আঘাতের মাত্রা কম করে দেখাচ্ছে এবং তাদের যুদ্ধাহত হিসেবে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। তবে মার্কিন সেনাবাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সামরিক বাহিনী সাধারণত আহত সেনাদের আঘাতের বিস্তারিত তথ্য ধীরগতিতে প্রকাশ করছে। এর একটি কারণ হলো, মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডকে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করতেই হবে— এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, বিশেষ করে আহত সেনারা যদি অল্প সময়ের মধ্যেই আবার দায়িত্বে ফিরে আসেন।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha